পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

সাগরের তীর থেকে মিষ্টি কিছু হাওয়া এনে, তোমার কপালে ছোয়াবো গো ভাবি মনে মনে……।
সাগর নিয়ে  এটি একটি জনপ্রিয় গানের প্রথম অংশ।  সাগর নিয়ে মানুষের মনে জল্পনার কল্পনার যেন শেষ নেই। সাগরের বিশালতা, সৌন্দর্য্য মানুষকে সব সময় টেনেছে আর হয়েছে আকর্ষনের কেন্দ্র বিন্দু। বাংলাদেশে সমুদ্র সৈকত বলতে মানুষজন বঙ্গোপসাগরকেই বোঝে। এর বাইরেও বাংলাদেশেই রয়েছে কয়েকটি সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত তার মাঝে অন্যতম। আর চট্টগ্রাম শহরে ঘুরতে গিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত না দেখলে পুরো ভ্রমনটাই যেন বৃথা।

ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হওয়া কর্ণফুলী নদী, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। এ নদীর মোহনায় বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ‘চট্টগ্রাম বন্দর’। উৎস হতে এ নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার হলেও কাপ্তাই বাঁধ থেকে মোহনা পর্যন্ত সাড়ে ৮৮ কিলোমিটার।
উৎসব, পার্বণ কিংবা ছুটির দিন ছাড়াও চট্টগ্রামে ঘুরতে এলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার আগ্রহ দেখান না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। পতেঙ্গা চট্টগ্রাম শহরের ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি সমূদ্র সৈকত। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। পতেঙ্গা চট্টগ্রাম শহরের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পতেঙ্গা যাওয়ার পথে অনেক বড় বড় কারখানা চোখে পড়বে। চোখে পড়বে মেরিন একাডেমি। যাওয়ার পথের অনেকটা জুড়েই পাশে থাকবে কর্ণফুলি নদী। নান্দনিক প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা বন্দর নগরী চট্টগ্রাম।দুইপাশে পাহাড়, একপাশে নদী, অন্যপাশে সাগর। কর্ণফুলীর মোহনা, পৃথিবীর সুন্দরতম এক নদীর মোহনা।

অস্তমিত সূর্যকে দেখতে দেখতে বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে কার না ভাল লাগে। চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা সৈকতে আসলে পাবেন এ সুযোগ।পতেঙ্গা সৈকতটি অন্যান্য সৈকতগুলো থেকে আলাদা। একই সাথে এখানে পাওয়া প্রকৃতির নৈসর্গিক হাতছানি আর তার সাথে সমুদ্র বন্দরের কর্মব্যস্ততা। বিশাল সমুদ্রের সাথে কর্ণফুলী নদীটির মিলনমেলা এখানে। কিছু এলাকা জুড়ে চতুরকোণ কণক্রিটের আবরণ দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
ভ্রমণপিপাসুরা শুনতে পাবেন সাগরের কল্লোল, দেখবেন নীল জলরাশির অপার ঢেউ। বিশ্বের নানাদেশের নানা পতাকাবাহী নোঙর করা সারি সারি জাহাজ, নয়নাভিরাম দৃশ্যের সৃষ্টি করে। পর্যটক যিনিই আসেন, অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। পৃথিবীতে এরকম সৌন্দর্যে ভরপুর দ্বিতীয় কোন নদীর মোহনা সত্যিই বিরল। দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের সফেদ জলরাশি আর সাগরপাড়ে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাতম আনমনা করে তোলে এখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের।
বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্রের বালুকা বেলায় ডেকোরেশনের টেবিল ও চেয়ার পেতে খাবার হোটেল, শামুক-ঝিনুকের সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে প্রায় ৪৩৬ টি দোকান। ছুটির দিনগুলোতে প্রচন্ড ভিড়ে মানুষেরা ঘুরে বেরিয়ে, কেনাকাটা করে সময় কাটাতে দেখা যায় বিশেষ করে এ পর্যটন মৌসুমে। বিকেলে সমুদ্র সৈকতের সুর্যাস্ত দেখার জন্য আসা নারী-পুরুষ,তরুন-তরুনী, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষ আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরে যায়।
সন্ধ্যার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাড়ে কাফকো ও ইউরিয়া সার কারখানা লাল নীল বাতি দেখতে প্রাইভেট কার, মাইক্রো নিয়ে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ। মানুষের মিলন মেলা বসে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত। সন্ধ্যায় নেভালের রাস্তার বিপরীত পাশে দোকান গুলো ছোট ছোট পেয়াজু ও কাকড়া ভাঁজি খেতে খেতে সন্ধ্যার পরিবেশটা উপভোগ, যে একবার করবে তাকে আরেক বার আসতেই হবে। রাতে জাহাজ বা নৌকায় নদীর মাঝে বা সমুদ্রের মাঝে গিয়ে চাঁদে আলোর পরিবেশটা কখনোই ভুলে যাবার মত নয়। হালকা মৃদু বাতাস , আর চার দিকে সবই সাদা। এই সাদা চাঁদের আলোটা যেন শুধুই নিজের জন্য।
১৯৯১ সালের ঘূর্ণীঝড়ে এই সৈকতটি ভয়াবহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্তমানে সমূদ্র সৈকতে সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা বেড়ি বাঁধ দেয়া হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ঘাটি বিএনএস ঈসা খান পতেঙ্গার সন্নিকটে অবস্থিত। পতেঙ্গা সৈকতে যাওয়ার পথে নৌবাহিনীর গল্ফ ক্লাব পর্যটকদের মন কাড়ে খুব সহজেই। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর এর অনেক জেটি এইখানে অবস্থিত।
এটি চট্টগ্রাম শহরের আরেকটি প্রাণকেন্দ্র,পর্যটকদের মিলনমেলা। ইতোমধ্যে এই সৈকত বিশ্ব পরিচিতি পেয়েছে। বিকাল হতে না হতেই হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায় এই সমুদ্র সৈকতে। মনোমুগ্ধকর এক পর্যটন এলাকা আর মনোরম পরিবেশ এর কারণে যে কেউ বার ছুটে আসতে চায় এই সৈকতে। কর্ণফুলী নদীর মোহনা সংলগ্ন নেভাল একাডেমীর সম্মুখে বিকাল হতে না হতেই শুরু হয় মানুষের আনাগোনা। পরিবেশটা এতোটাই মনোমুগ্ধকর যে, কারো মনে যদি কোন দুশ্চিন্তা থাকে এবং সে যদি এই নেভাল একাডেমী কিংবা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ধারে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে তাহলে দুশ্চিন্তাগুলো মন থেকে কোথায় যেন হারিয়ে যায় নিমিষেই।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের অপরূপ দৃশ্য,পতেঙ্গাসমুদ্র সৈকত হতে সূর্যাস্ত দেখা এ সব কিছু মিলে যেন এক অসাধারণ অনুভুতি। এমন অপূর্ব মনকাড়া সৌন্দর্য্য কার না দেখতে ভাল লাগে বলুন।তাহলে আর দেরী কেন,যারা এখনো পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আসেননি,দেখেননি তারা এখনই চলে আসুন এই সৈকতে আর দেখে যান চাঁদের আলোয় চোখ জুড়ানো অপরূপ সৌন্দর্য্য।
কিভাবে যাবেন :
চট্টগ্রাম থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিনে। চট্টগ্রাম শহর থেকে অটো রিক্সায় করে যেতে সময় লাগে ঘণ্টা খানিক । ভাড়া নিবে ২৫০ টাকার মত । আর বাসে যেতে চাইলে তো কথাই নাই,বহদ্দার হাট, লালখান বাজার মোড়, জিইসি মোড় , নিউ মার্কেট , চক বাজার মোড় থেকে সরাসরি বাস পাবেন। বাসের গায়ে লেখা দেখবেন ” সী বীচ” লেখা আছে।
সতর্কতা
সৈকতে ঘুরতে গিয়ে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে দল বেধে যাওয়াই ভালো। কোনো বিপদ কিংবা অভিযোগ থাকলে সৈকতের ভ্রাম্যমাণ পুলিশ ফাঁড়িতে জানাতে পারেন। তবে অধিক লোকের সমাগম আছে ওই দিকটায় থাকাই শ্রেয়। সৈকতে বেড়াতে গেলে নিজস্ব ক্যামেরা নিয়ে যেতে পারেন। কেননা একাকী ভ্রমণে গেলে সৈকতে থাকা ভ্রাম্যমাণ ফটোওয়ালাদের কাছে ছবি তুলতে না যাওয়াই ভালো।স্পিডবোড, নৌকা, ঘোড়া যেখানেই চড়ুন! আগে দেখে শুনে ভাড়া শুনে নিলে ভালো হয়।
বান্দরবান জেলায় দেখার মতো জায়গাগুলো

বান্দরবান জেলায় দেখার মতো জায়গাগুলো

বান্দরবান জেলায় দেখার মতো জায়গাগুলো হলা: ১। নীলগিরি, ২। স্বর্ণমন্দির, ৩। মেঘলা, ৪। শৈল প্রপাত, ৫। নীলাচল, ৬। মিলনছড়ি, ৭। চিম্বুক, ৮। সাঙ্গু নদী, ৯। তাজিনডং, ১০। কেওক্রাডং, ১১। জাদিপাই ঝরণা, ১২। বগালেক, ১৩। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, ১৪। প্রান্তিক লেক, ১৫। ঋজুক জলপ্রপাত, ১৬। নাফাখুম জলপ্রপাত। এছাড়া বান্দরবানে কয়েকটি ঝিরি রয়েছে। যেমনঃ চিংড়ি ঝিরি, পাতাং ঝিরি, রুমানাপাড়া ঝিরি।

এতগুলো জায়গা একসাথে দেখা সম্ভব নয়। তবে বান্দবান শহরে থেকে, আশেপাশের ৭টি এলাকা- স্বর্ণ মন্দির, নীলগিরি, মেঘলা, নীলাচল, শৈল প্রপাত, মিলনছড়ি ও চিম্বুক ঘুরে আসতে পারেন।

দেশের অন্যান্য যেকোন জায়গা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম, সেখানে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে সোজা বান্দরবান যাওয়া যায়। আর ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান পর্যন্ত বাস সার্ভিস আছে।

ঢাকা থেকে সরাসরি: আরামবাগ থেকে শ্যামলী, ঈগল, ইউনিক বাস সার্ভিস সরাসরি বান্দরবান যায়। জনপ্রতি ভাড়া ৬০০ থেকে ৬৫০টাকা।

চট্টগ্রাম হয়ে বান্দরবান: দেশের যেকোন এলাকা থেকে বান্দরবান যাওয়ার জন্য প্রথমে চট্টগ্রাম যেতে হবে। সেখানের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে বাস-এ করে যেতে হবে বান্দরবান। বিভিন্ন বাস সার্ভিস আছে। প্রতি ৩০ মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

কোথায় থাকবেন: বান্দরবান সদরে বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। এগুলো হল- হোটেল ফোর স্টার, হোটেল গ্রিন হিল, হোটেল হিল বার্ড, হোটেল পূরবী, হোটেল প্লাজা ইত্যাদি। এছাড়া হোটেল থ্রি স্টার বান্দরবান বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ি এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়ে। এই হোটেলের সুবিধা হল এখানের ৪ বেডের একটি ফ্ল্যাটে ৮ থেকে ১০ জন একসাথে থাকতে পারে।

নীলগিরি

নীলগিরি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। এর উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ফুট। এটি বান্দরবান জেলার ‘থানছি’ উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে এই পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। এই পর্বতের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজাতী সম্প্রদায় ম্রো পল্লী। যাদের বিচিত্র সংস্কৃতি দেখার মত। বর্ষা মৌসুমে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র থেকে মেঘ ছোঁয়ার দূর্লভ সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র এটি। যা সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এর পাশেই রয়েছে একটি সেনাক্যাম্প। বান্দরবান জেলা সদর থেকে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসেন। বান্দরবান জিপ স্টেশন থেকে জিপ, ল্যান্ড রোভার, ল্যান্ড ক্রুজারসহ অন্যান্য হালকা গাড়িও ভাড়ায় পাওয়া যায়। নীলগিরি যাওয়ার পথে সেনা চেকপোস্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাধারণত বিকেল ৫ টার পর নীলগিরির উদ্দেশে কোন গাড়ি যেতে দেয়া হয় না। এছাড়া নিরিবিলিতে স্বপরিবারে কয়েকটা দিন কাটাতে এটি একটি আদর্শ জায়গা। এরজন্য বান্দরবান সদর সেনা রিজিয়নে বুকিং দেয়া যায়। যোগাযোগ করতে হবে- পেট্রো এভিয়েশন : ৬৯/২, লেভেল-৪,রোড-৭/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা এই ঠিকানায়।

স্বর্ণমন্দির

এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মন্দির বা প্যাগোডা। যেটার আরেক নাম ‘মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বৌদ্ধধাতু চেতী’। তবে স্বর্ণ মন্দির নামেই এটা পরিচিত বেশি। বান্দরবানের উপশহর বালাঘাটা’র পুল পাড়ায় এর অবস্থান। বান্দরবান জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি সুদৃশ্য এই স্বর্ণ মন্দিরটির আসলে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। নামেই বোঝা যায় এটির রঙ সোনালি। দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এখানে প্রার্থনা করতে আসেন। গৌতমবুদ্ধের সমসাময়িক কালে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মূর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে। এই বৌদ্ধ মন্দির বা প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা প্যাগোডাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ের উপর একটি পুকুর আছে যা দেবতা পুকুর নামে পরিচিত। এই প্যাগোডা থেকে বান্দরবানের বালাঘাটা উপশহর আর আশপাশের সুন্দর নৈস্বর্গিক দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া বান্দরবান রেডিও স্টেশন, বান্দরবান থেকে চন্দ্রঘোনা যাওয়ার আঁকাবাঁকা পথটাও দেখতে বেশ লাগে। এই প্যাগোডা একটি আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এখানে মেলা বসে। এ প্যাগোডাটি পুজারীদের জন্য সারাদিন খোলা থাকে আর ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থীদের জন্য বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয় ।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র

বান্দরবান শহরে ঢুকতে বান্দরবান কেরাণীহাট রাস্তার পাশেই পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় এটি অবস্থিত। পাহাড়ের খাদে বাঁধ নির্মাণ করে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে । বান্দরবান শহর থেকে এই কেন্দ্রটির দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। বেড়াতে আসা পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশুপার্ক, নৌকা ভ্রমনের সুবিধা, ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি রেস্টহাউস। এছাড়া আকর্ষণীয় একটি চিড়িয়াখানা এই কেন্দ্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্ববধানে এটি পরিচালিত হয়।

নীলাচল ও শুভ্রনীলা

বান্দরবান জেলা সদরের প্রবেশ মুখ টাইগার পাড়ার কাছাকাছি পাশাপাশি অবস্থিত এ পর্যটন কেন্দ্র দুটি। নীলাচল জেলা প্রশাসন ও শুভ্রনীলা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই পর্যটন কেন্দ্র দুটি পরিচালিত হয় । নীলাচল-এর উচ্চতা প্রায় ১৭০০ ফুট। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে এটা অবস্থিত। এ পাহাড়ের উপর নির্মিত এ দুটি পর্যটন কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

চিম্বুক

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। চিম্বুক সারা দেশের কাছে পরিচিত নাম। বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০ শত ফুট। চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ী দৃশ্য খুবই মনোরম। যাওয়ার পথে সাঙ্গু নদী চোখে পড়ে। পাহাড়ের মাঝে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে এঁকেবেঁকে যাওয়ার সময় মনে হবে গাড়িতে করে বুঝি চাঁদের বুকে পাড়ি জমাচ্ছেন। ২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে এ অপরূপ বিচিত্র প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাবেন চিম্বুকে। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন নিচে ভেসে যাচ্ছে মেঘের ভেলা। পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার আর চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন উপজেলাগুলোকে দেখা যায় এখান থেকে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হয় মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক।

থানছি সড়কের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় চিম্বুক অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠেনি। জেলা প্রশাসকের তত্ত্ববধানে একটি রেস্টহাউস আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোতিক্রমে রাত্রি যাপনের সুযোগ রয়েছে। চিম্বুকের পাশে সেনাবাহিনীর ক্যান্টিন রয়েছে। এখানে সকালের নাস্তা ও দুপুরে খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া খাবারের জন্য বান্দরবান থেকে চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা নামে ২টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। তবে বান্দরবান থেকে হালকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রওনা দেওয়াটাই সবচেয়ে ভাল।

চিম্বুক যেতে হলে বান্দরবান শহরের রুমা বাস স্টেশন থেকে চাঁদের গাড়ি হিসেবে পরিচিত জীপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, পাজেরো এবং বান্দরবান-থানছি পথে যাতায়াত করা বাস ভাড়া নিতে হবে (স্পেশাল বাস যা দূর্গম পাহাড়ী পথে চলাচল করতে সক্ষম)। রাস্তা বেশ দূর্গম হওয়ায় বাসে যাতায়ত করা ঝুঁকিপূর্ণ। চিম্বুক-থানছি পথে বিকেল ৪ টার পরে কোন গাড়ি চলাচল করে না। তাই পর্যটকদের ৪ টার মধ্যে ফিরে আসা উচিত।

শৈল প্রপাত

বান্দরবান রুমা রাস্তার ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি। সারাক্ষণ ঝর্ণার হিমশীতল পানি এখানে বয়ে যাচ্ছে। এই ঝর্ণার পানিগুলো খুবই স্বচ্ছ। বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা বেশ কঠিন। বছরের বেশিরভাগ সময় দেশী বিদেশী পর্যটকে ভরপুর থাকে। রাস্তার পাশেই শৈলপ্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভিড় বেশি দেখা যায়। এখানে দুর্গম পাহাড়ের কোল ঘেঁষা আদিবাসী বম সমপ্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা যায়। বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়ি কিংবা গাড়ি ও জিপ ভাড়া করে শৈলপ্রপাতে যাওয়া যায়।

মিলনছড়ি

মিলনছড়ি বান্দরবান শহর থেকে ৩ কিঃমিঃ দক্ষিণ পূর্বে শৈলপ্রপাত বা চিম্বুক যাওয়ার পথে পড়ে। এখানে একটি পুলিশ পাড়ি আছে। পাহাড়ের বেশ উপরে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির বুক ছিঁড়ে সর্পিল গতিতে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নামের মোহনীয় নদীটি দেখা যাবে।

এই জায়গাগুলো দেখতে যাওয়া-আসা মিলিয়ে হাতে চার থেকে পাঁচ দিনের সময় নিয়ে যেতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় রাতে ভ্রমণ করে ভোরে বান্দরবান পোঁছানো। আর সেখান থেকে বিকালে রওনা দিয়ে ফিরে আসা। এতে করে দুই দিনেই বান্দরবানের এই জায়গাগুলো ঘুরে আসা সম্ভব। একটি জিপ গাড়ি ভাড়া করে এই এলাকাগুলো ঘুরে আসতে খরচ পড়বে ৮ হাজার টাকার মত। একটি জিপ গাড়িতে ৮ থেকে ১০ জন বসতে পারে।
কি আছে কক্সবাজার এ??? জেনে নিন মোটামুটি বেশ কিছু তথ্য।

কি আছে কক্সবাজার এ??? জেনে নিন মোটামুটি বেশ কিছু তথ্য।

০১। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। এর দৈর্ঘ্য ১২০ কি:মি:
০২। খোলা জীপে, স্পীড বোটে বা ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানো
০৩। লাবনী পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্ট, ডায়বেটিক হাসপাতাল পয়েন্টসহ আরো কয়েকটি পয়েন্ট
০৪। হিমছড়ি: কক্সবাজার হতে প্রায় ১০ কি:মি: দক্ষিণে
০৫। হিমছড়ি যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা রয়েছে।
০৬। হিমছড়িতে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে একটি পিকনিক স্পট তৈরী করা হয়েছে।
০৭। রাডার ষ্টেশন: হিলটপ সার্কিট হাউসের দক্ষিণ পাশের চূঁড়ায় কক্সবাজার রাডার ষ্টেশনের অবস্থান। এখান থেকেই দেশব্যাপী ঝড়ঝাঞ্জা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়। রাডার যন্ত্রটি সুইডিশ শিশুকল্যাণ সংস্থা ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় ১৯৬৮ সালে স্থাপন করা হয়।
০৮। বদর মোকাম: বদর মোকাম মসজিদটি শহরের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ। স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি আছে পীর বদরশাহ’র নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ তীরে কক্সবাজার সদর থানার পার্শ্বে মসজিদটি অবস্থিত।
০৯। হিলটপ সার্কিট হাউস:জেলা পরিষদ ভবনের পশ্চিম দক্ষিণে পাহাড়ের চুঁড়ায় মনোরম পরিবেশে হিলটপ সার্কিট হাউসের অবস্থান। অল্পক্ষণের জন্য হলেও ভারতের দার্জিলিং এর মত মনে হবে। এর চূঁড়া থেকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গ ও পর্যটন নগরীর টপভিউ অবলোকন করা সম্ভব।
১০। লাইট হাউস: রাডার ষ্টেশনের দক্ষিণে অপর একটি পাহাড়ের চূঁড়ায় এর অবস্থান।
১১। প্রাচীন ঐতিহ্য:১৬০০-১৭০০ খৃষ্টাব্দে শাহ সুজার আমলে একটি মসজিদ তৈরী হয়েছিল। এটি চৌধুরী পাড়া মসজিদ বা আজগবি মসজিদ নামে পরিচিত। এটি কক্সবাজার সদরের বি.ডি.আর ক্যাম্পের উত্তর দিকে অবস্থিত।
১২। হ্যাচারী জোন:আনবিক শক্তি কমিশন থেকে দক্ষিণে কলাতলী হ্যাচারী এখান থেকে বছরে হাজার কোটি টাকা আয় হয়।
১৩। প্যাগোড়া (জাদী): ১৭৯০ ইংরেজী সালের দিকে বার্মিজরা আরাকান বিজয়ের পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় রাখাইন সম্প্রদায় এটি নির্মাণ করে। তারা এটিকে স্মৃতিচিহ্ন বলে। কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফের পাহাড় বা উচুঁ টিলায় এ ধরনের প্যাগোড়া দেখা যায়।
১৪। অগ্গ মেধা বৌদ্ধ ক্যাং: কক্সবাজার সদরে ছোট বড় মিলিয়ে ৭টিরও বেশী বৌদ্ধ ক্যাং রয়েছে। আগ্গা মেধা ক্যাং ও মাহাসিংদোগীক্যাং সবচেয়ে বড়। এ সবে স্থাপিত বৌদ্ধ মুর্তিগুলো দেখবার মতো। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও বিষু উৎসব ক্যাং এ উদযাপন হয়।
১৫। শুটকী রপ্তানী ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা:পুরো এলাকা জুড়ে বেশ কয়েকটি শুটকী রপ্তানী ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
১৬। শুটকী মহাল (জিরো পয়েন্ট): এখানে বঙ্গোপসারে থেকে আহরিত মৎসকে প্রাকৃতিক উপায়ে শুকানো হয়। স্থানটি নাজিরার টেক নামে পরিচিত এবং এটি কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট।
১৭। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র:বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত মৎস্য এখানেই নামানো হয়। এটি ফিসারীজ ঘাট নামেও পরিচিত। বাঁকখালী নদীর তীরে অবস্থিত উক্ত স্থানটি
১৮। লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা:ইসলামপুর, নাপিতখালী এলাকা থেকে বাংলাদেশের চাহিদার ৮৫% লবণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপনন হয়ে থাকে। কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কি:মি: দূরে এর অবস্থান। টেক্সী কিংবা মাইক্রোবাস যোগে বেড়ায়ে আসা যাবে।
১৯। বার্মিজ মার্কেট:রাখাইন রমনীদের পরিচালিত বিভিন্ন রকম হস্তশিল্প ও মনোহরী দ্রব্যাদির দোকান। পূর্ব বাজারঘাটার দিকে।
২০। ঝিনুক মার্কেট: ঝিনুক শিল্পের রকমারি জিনিসপত্রের প্রধান বিক্রয় ও বিপনন কেন্দ্র। এর অবস্থান প্রধান সড়কে হোটেল হলিডের মোড়ের পশ্চিমে।
২১। শাহ ওমর শাহ (রা - এর দরগাহ:কাকারা ইউনিয়নে একটি নাম করা দরগাহ এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান রয়েছে। এ’ছাড়া কাকারায় প্রতি বছর একটি ঐতিহাসিক ঘোড় দৌঁড়ের মেলাও অনুষ্ঠিত হয়। কাকারার পাশে মানিকপুর ‘মহিষের দই’ এর জন্য বিখ্যাত।
২২। গোলাপ চাষ প্রকল্প:প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গোলাপ ফুলের চাষ করা হয়েছে। উক্ত ফুলের বাগানটি চকরিয়াউপজেলার হারবাং এলাকায় অবস্থিত।
২৩। দুলাহাজরা সাফারী পার্ক: সাফারী পার্ক হলো সরকার ঘোষিত এলাকা।
সাফারী পার্ক চিড়িয়াখানা থেকে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীব-জন্তু আবদ্ধ অবস্থায় থাকে আর সাফারী পার্কে মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে। এর আয়তন ৯০০ হেক্টর। কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে ডুলাহাজারা রিজার্ভ ফেরেষ্টে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিতবনাঞ্চলে সাফারী পার্কটি অবস্থিত।কক্সবাজার জেলা সদর হতে উত্তরে পার্কটিরদূরত্ব ৫০ কি:মি: এবং চকরিয়া সদর হতে দক্ষিণে ১০ কি:মি:।ভূতাত্ত্বিকভাবে এ অঞ্চল টারসিয়ারি পিরিয়ডের প্লিওসিন যুগের অন্তর্ভূক্ত যা ২৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে গঠিত হয়েছে। এটি ডুপিটিলা সিরিজের অন্তর্গত যা সেন্ডস্টোন, সিল্টস্টোন ও স্যালন দ্বারা গঠিত।প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত নির্জন উঁচুনিচু টিলা, প্রবাহমান ছড়া, হ্রদ, বিচিত্র গর্জন এর মত সু-উচ্চ ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক বৃক্ষ চিরসবুজ বনের জানা-অজানা গাছ-
গাছালি, ফল-ভেষজ উদ্ভিদ, লতার অপূর্ব উদ্ভিদ রাজির সমাহার ও ঘন আচ্ছাদনে গড়ে উঠেছে সাফারী পার্ক।
২৪। প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র:সাফারী পার্কের অভ্যন্তরেই স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র। বাংলাদেশের প্রায় সবধরণের বনাঞ্চলের গাছপালা, বন্যপ্রাণীর মডেল, মুরাল ও ষ্টাফিং করে আলো ও শব্দ প্রবাহের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল সম্পর্কে দর্শকদের সম্যক ধারণাদেয়া হয়। এখানে প্রায় ১০০ ধরণের বন্যপ্রাণী ও অসংখ্য গাছপালারমডেল মুরাল তৈরী করা হয়েছে। প্রায় ২৫ মিনিটের দীর্ঘ স্বব্যখ্যায়িত অডিও-ভিস্যুয়াল প্রোগ্রামের
২৫। কৃত্রিম হ্রদ: ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের অভ্যন্তরে বন্যপ্রাণীর পানীয় জলের জন্য ২টি কৃত্রিম হ্রদ রয়েছে।
২৬। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম:১৯৬০ সনে কক্সবাজারের বনাঞ্চল হতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিলুপ্ত হয়ে গেছে।মিঠাপানির কুমির সুন্দরবন হতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম বন্যপ্রাণী মিউজিয়াম। এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহা সড়কের পূর্ব পার্শে ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের গেটের পাশে অবস্থিত।
পরিদর্শন ফি:
১। প্রাপ্ত বয়স্ক (১৫ বৎসরের উর্ধে): ১০/=
৭। প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন: ১০/=
৮। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম পরিদর্শন: ৫/=
৯। ব্যক্তিগত পরিবহনে পার্ক পরিদর্শন: ৫০/=
১০। গাড়ী পার্কিং ফি:-১৫/=
পরিদর্শনের সময় সূচী:
প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
২৭। রামকোট তীর্থধাম: এটি রামকোট বনাশ্রমের পার্শ্বের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। ৯০১ বাংলা সনে স্থাপিত। কথিত আছে রাম-সীতা বনবাস কালে এই রামকোটে অবস্থান করেছিল। তীর্থধামে মন্দিরের পাশাপাশি আলাদা একটি বৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন ছোট একটি বৌদ্ধমূর্তিও রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দু’টি ধর্ম পাশাপাশি শান্তিতেসহাবস্থানের প্রমাণ স্বরূপ সম্রাট অশোকের সময়ে এইমূর্তি স্থাপিত হয়।
২৮। ছেংখাইব ক্যাং: রামুর শ্রীকুলস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে ছেংখাইব ক্যাং (বৌদ্ধ বিহার টি) অবস্থিত। এ বৌদ্ধ বিহারে নানা রকম নক্সা খচিত আসন ও কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত ১০টিরও বেশী পিতল এবং আরো অনেক শ্বেত পাথরের মূর্তি শোভা পাচ্ছে। সব মিলে রামু থানায় ২৩টি বৌদ্ধ বিহারে শতাধিক মূল্যবান বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।
২৯। আধাঁর মানিক:রামু থানার কাউয়ার খোপ ইউনিয়নে উখিয়ার ঘোনায় একটি রহস্যময় গর্ত আছে। যার শেষ কোথায় কেউ জানে না। তাই একে কেন্দ্র করে জন্ম নিয়েছে অনেক কিংবদন্তী।
৩০। লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহার:ফতেখাঁর কুল ইউনিয়নে লামার পাড়া গ্রামে অপূর্ব সৌন্দর্য্য মন্ডিত বৌদ্ধ বিহারটি অবস্থিত। এ ক্যাং এ পিতল নির্মিত বৌদ্ধ মূর্তিটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তি। এত কারুকার্য খচিত বৌদ্ধ বিহার কক্সবাজার জেলায় আর কোথাও নেই।
৩১। রামকোট: রামু থানার রাজারকুল ইউনিয়নে পাহাড়ের চুঁড়ায় রামকোট বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত। মন্দিরটি ২০০০ বৎসর পূর্বে (খৃ:পূ: ৩০৮) নির্মিত হয়। কলিঙ্গ যুদ্ধের পর সম্রাট অশোক অস্ত্র ত্যাগ করে হিন্দু ধর্মথেকে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়ে মুর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেন। রামকোট বনাশ্রমেছোট বড় আরো অনেক বৌদ্ধমূর্তিরয়েছে। রামু চৌমুহনী থেকে রামকোট বনাশ্রমেরিক্সায় যাওয়া যায়।
৩২। রাবার বাগান: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের মধ্যে রামু রাবার বাগান ভিন্ন আমেজের অপরূপ দর্শনীয় স্থান। ২৮,৮৮৬ একর জায়গার উপর বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থার পরিকল্পনায় স্থাপিত কক্সবাজার জেলা তথা বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ রাবার বাগান।
৩৩। নাইক্ষ্যংছড়ি লেক ও ঝুলন্ত ব্রীজ:এটি একটি প্রাকৃতিক জলাশয়। এখানে রয়েছে একটি ঝুলন্ত ব্রীজ। এর উপর দিয়ে লেকের এপাড় ওপড় যাওয়া যায়। কক্সবাজার শহর হতে সরাসরি গাড়ি যোগে নাইক্ষ্যংছড়ি যাওয়া যায় এবং দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায়। কক্সবাজার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দূরত্ব ২৮ কি:মি:।
৩৪। আইসোলেটেড নারিকেল বাগান: রামু চৌমুহনী হতে দক্ষিণে ৫ কি:মি: দুরে রাজারকুলের পাহাড়ে মনোরম পরিবেশে ২৫০ একর জায়গায় এটি অবস্থিত। বাগানটি ‘এ’ এবং ‘বি’ ব্লকে বিভক্ত। প্রত্যেকটি ব্লকে ৪টি করে সাব ব্লক রয়েছে। বাগানে নারিকেল গাছের সংখ্যা প্রায় ৯,১১২টি।
৩৫। ইনানী: ইনানীতে যেতে হলে কক্সবাজার থেকে উখিয়া কোটবাজার হয়ে জীপে পশ্চিমে প্রায় তিন মাইল গেলেই ইনানী সৈকত।
সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন 



টেকনাফ থানা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি. সমুদ্র গর্ভে মনোরম দ্বীপ সেণ্ট মার্টিন। প্রায় ১৬ বর্গ কি.মি. জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সমুদ্র তীরে সারি সারি নারিকেল বৃক্ষ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার আদিবাসীদের বিচিত্র জীবনযাপন- সব মিলিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ জাগানিয়া উপাদানের বিন্দুমাত্র অভাব নেই।

দ্বীপে পা দিয়েই বুঝতে পারবেন এটিকে নিয়ে মানুষ কেন এত মাতামাতি করে, আর কেনইবা একে বলা হয় সুন্দরের লীলাভূমি। বাংলাদেশে যতগুলো উল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকা রয়েছে সেন্ট মার্টন তার মাঝে অন্যতম ও নান্দনিক। দ্বীপটি দৈঘ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থে কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর। দ্বীপের শেষ মাথায় সরু লেজের মত আর একটি অবিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে যার নাম ছেঁড়াদ্বীপ।

সেন্টমার্টিনের অধিবাসীরা প্রায় সবাই জেলে। শুটকি তাদের প্রধান ব্যবসা। কিছু কৃষক পরিবার এখানে ধান, ডাল, শাক সব্জী উৎপন্ন করে। এ ছাড়া পর্যটন শিল্পের সাথে বহু স্থানীয় মানুষ জড়িত রয়েছে। এই দ্বীপের বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় চার হাজার। বর্তমানে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, থানা-ফাঁড়িসহ নানান স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দ্বীপের সমুদ্র ঘেঁষে একপাশে আছে কচ্ছপের হ্যাঁচারি।

এটি সত্যিই একটি ভিন্ন প্রকৃতির দ্বীপ। অসংখ্য নারিকেল গাছ, কেয়া গুল্ম আর সবুজ বনানী এই দ্বীপকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পুরো দ্বীপ ঘুরলে মনে হবে নারিকেল বাগান এটি। আপনি চাইলে অর্থের বিনিময়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারেন নারিকেল জলে। এর একদিকে যেমন প্রবাল প্রাচীর ঘিরে রেখেছে, অন্য দিকে বালুকাময় সৈকত প্রহর গুনছে আপনার অপেক্ষায়। সৈকতের অজস্র লাল কাঁকড়া আপনাকে নিঃসন্দেহে আকৃষ্টে করবে। অবচেতন মনেই আপনি কুড়িয়ে নিবেন বিভিন্ন রকম নুড়ি পাথর আর ঝিনুক। আর অযুত নিযুত সি গালের ওড়াউড়ি তো আছেই আপনার মন মাতাতে।

ইতিহাস-

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্থানীয় ভাবে জাজিরা নামে পরিচিত। এক সময় এই দ্বীপটি ছিল একটি বিশ্রামাগারের মত। বিভিন্ন দেশের বনিকরা বিশেষ করে আরব বনিকরা পন্য নিয়ে যখন সওদা করতে যেতো তখন তারা এই দ্বীপে বিশ্রাম নিত। আর তখন থেকেই এই দ্বীপের নাম হয় জাজিরা। তবে পরবর্তীতে এটি নারিকেল জিনজিরাও বলে পরিচিতি লাভ করে। অসংখ্য নারিকেল গাছের সমারোহ থাকায় এই দ্বীপকে এই নামে ডাকা হয়ে থাকে। সর্বশেষে ইংরেজরা এই দ্বীপটির নামকরন করে সেন্ট মার্টিন এবং দেশ বিদেশের মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত এই নামেই পরিচিত। তবে নামকরণ নিয়ে আছে মজার একটি গল্পও-ও। একদা নাকি নারকেল জিঞ্জিরায় মার্টিন নামে অলৌকিক শক্তির অধিকারী এক সাধু বাস করতেন। একবার ঘূর্নিঝড়ের সময় উচুঁ উচুঁ ঢেউ দ্বীপটিকে গ্রাস করে নেবে- ঠিক সেই সময়ই সাধু মার্টিন নাকি তাঁর অলৌকিক শক্তিবলে বিশাল একটা আকাশ সমান পালের মতন ফুলে উঠে অস্থির অশান্ত ঢেউগুলি আটকে দ্বীপটিকে রক্ষা করেছিলেন। তারপর থেকেই সাধু মার্টিনের নামেই দ্বীপের নাম হল সেন্ট মার্টিন।

যেভাবে যেতে হবে-
অনেক ভাবেই পৌছানো যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এখানে যেতে হলে প্রথমেই যেতে হবে টেকনাফ জাহাজ ঘাটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার থেকে বাস বা মাইক্রোবাসে করে যাওয়া যাবে ৯ কিমি.। টেকনাফের জাহাজ ঘাটে গিয়ে আপনাকে সী ট্রাকের টিকেট কাটতে হবে। টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনের দুরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। শীতের মৌসুমে সাগর শান্ত থাকে তাই এই সময় এখানে যাওয়া অনেক বেশী নিরাপদ। এই পর্যটন মৌসুমে এখানে টেকনাফ হতে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত কেয়ারী সিন্দবাদ সহ বেশ কয়েকটি সী-ট্রাক চলাচল করে। সকাল ১০ টায় এই নৌযানটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং বিকাল ৩ টায় ফিরে আসে। তবে এছাড়াও ট্রলার ও স্পীড বোটে করে যাওয়া যায় সেন্ট মার্টন। সী ট্রাক গুলো এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলাচল করে। এর পর বৈরি আবহাওয়ার কারনে প্রশাসন এদের চলতে দেয়না। এছাড়া বি.আই.ডব্লিও.টি.সি এর সি ট্রাকসহ আরও দু একটি আধুনিক জলযান চলে এ পথে। এতে জনপ্রতি ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে গেলে অবশ্যই আগে থেকে হোটেল নিশ্চিত করে যাওয়া ভালো। ধীরে-সুস্থে প্রায় এক ঘণ্টায় পুরো দ্বীপ বেড়িয়ে আসা যাবে। বাজারের কাছে ছোট ভ্যানগাড়িতে পুরো দ্বীপ বেড়িয়ে আসতে লাগবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। দ্বীপটি জমজমাট থাকে মাঝরাত অবধি। দিনে এসে দিনে যেতে চাইলে তাড়াতাড়ি করে খেয়ে সমুদ্রসৈকতে যেতে হবে। কারণ বেলা তিনটায় সব জাহাজ টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। আর শতভাগ সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে চাইলে থেকে যেতে পারেন। পর্যটকদের সেই সুবিধা দেওয়ার জন্য বেশ কিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকজনের কাছেই প্রাসাদ প্যারাডাইস, হোটেল অবকাশ, প্রিন্স হেভেন, ব্লু মেরিন, সি-ভিউসহ বিভিন্ন হোটেলের খবর পেয়ে যাবেন।
ভাড়া পড়বে মৌসুম অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত